| বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের ৩০ বছরের কারাদণ্ড | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-06-2026 ইং
  • 12505 বার পঠিত
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের ৩০ বছরের কারাদণ্ড | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল

বিদ্রোহের পর ক্ষমতার অপব্যবহারের সাজা: পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন হামলার পরিকল্পনায় দোষী সাব্যস্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের আকাশসীমায় বেআইনিভাবে সামরিক ড্রোন পাঠিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করার অপরাধে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট (Seoul Central District Court) হাই-প্রোফাইল এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। পাকিস্তানি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ (Geo News) এক প্রতিবেদনে এই ঐতিহাসিক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সামরিক আইন জারির ‘অজুহাত’ তৈরি করতে চেয়েছিলেন ইউন

সিউল আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের বুক চিরে পরিচালিত সেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও উসকানিমূলক ড্রোন অভিযানের মূল পরিকল্পনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল শুরু থেকেই সরাসরি জড়িত ছিলেন। আদালত সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে শত্রুপক্ষকে প্ররোচিত করার গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

প্রসিকিউশনের তদন্ত ও মূল অভিযোগে বলা হয়, পিয়ংইয়ংয়ের আকাশে ড্রোন পাঠিয়ে উত্তর কোরিয়াকে ক্ষিপ্ত করা এবং এর মাধ্যমে সীমান্তে কৃত্রিম যুদ্ধংদেহী উত্তেজনা সৃষ্টি করাই ছিল ইউনের মূল উদ্দেশ্য। আর এই উত্তেজনার অজুহাত দেখিয়েই তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিতর্কিত ‘সামরিক আইন’ (Martial Law) জারির একটি জঘন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চেয়েছিলেন। তবে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছেন।

আইনজীবীদের দাবি: ‘আবর্জনা বেলুনের’ জবাব ছিল ওটা

আদালতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের আইনজীবীরা দাবি করেন, ইউন সুক-ইওল কখনো এই ড্রোন অভিযানের সরাসরি কোনো নির্দেশ দেননি কিংবা পরবর্তী সময়ে এর কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও প্রদান করেননি। ডিফেন্স কাউন্সিলের মতে, এই ড্রোন অভিযানের সঙ্গে দেশে সামরিক আইন জারির কোনো দূরবর্তী সম্পর্ক ছিল না; বরং উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে দিনের পর দিন হাজার হাজার আবর্জনা ও মলমূত্রভর্তি বেলুন পাঠানোর যে নোংরা উসকানি দেওয়া হয়েছিল, এটি ছিল স্রেফ তারই পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া।

উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটররা আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে ইউনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ডের জোরালো আবেদন জানিয়েছিলেন, যা আজ আদালত মঞ্জুর করলেন।

দেশটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছিলেন ইউন

ক্ষমতাচ্যুত রক্ষণশীল এই নেতার বিরুদ্ধে দেশটির স্বাধীন বিচার বিভাগের দেওয়া একাধিক কঠোর রায়ের সর্বশেষ সংযোজন হলো আজকের এই ৩০ বছরের কারাদণ্ড। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক শীর্ষ প্রসিকিউটর থেকে দেশের প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া ইউনের আকস্মিক সামরিক আইন জারির আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত দেশটিকে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছিল।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই আরেকটি ভিন্ন মামলায়, দেশে জোরপূর্বক সামরিক আইন জারির অপচেষ্টাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার’ (Insurrection) দায়ে ইউন সুক-ইওলকে আদালত আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

তারও আগে, দেশের সর্বোচ্চ সংবিধান আদালত (Constitutional Court) সংসদ কর্তৃক পাস হওয়া ইউনের অভিশংসন (Impeachment) বহাল রাখার পর গত বছর ইউনকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে চরম অপমানজনকভাবে অপসারণ করা হয়েছিল। পরে দেশে অনুষ্ঠিত বিশেষ আগাম সাধারণ নির্বাচনে দেশটির জনপ্রিয় উদারপন্থী নেতা লি জে-মিয়ং (Lee Jae-myung) বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। বর্তমানে কড়া পাহারায় কারাগারে বন্দি থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন আজ সিউল আদালতের দেওয়া এই নতুন রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগ পাবেন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency